এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর | ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর | ৬ষ্ঠ সপ্তাহ  ২০২২ এইচএসসি  ষষ্ঠ সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসাইনমেন্ট এর উত্তর করার জন্য বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।  আজকে এইচএসসি ২০২২ ষষ্ঠ সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসাইনমেন্ট  এর উত্তর করার জন্য যে সকল বিষয় সম্পর্কে  জ্ঞান অর্জন করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব। এইচএসসি ২০২২ ষষ্ঠ সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসাইনমেন্ট থেকে যে সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা যাবে তা নিচে দেওয়া হল। প্রাচীন সভ্যতা সমূহের বৈশিষ্ট্য এবং এগুলোর প্রভাব সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীরা জানতে পারবে। অর্থাৎ প্রাচীন সভ্যতা সমূহের কি ধরনের বৈশিষ্ট্য ছিল সেসময় সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা কেমন ছিল সে সম্পর্কে জানতে পারবে।

 

ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বরাবরের মতো এবারও আমরা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ষষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট এর উত্তর এর পাশাপাশি এর প্রশ্ন তুলে ধরেছি। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি হাসান মেন্টের উত্তর ডাউনলোড এর পূর্বে অবশ্যই প্রশ্ন ভালোভাবে পড়ে বুঝে পরবর্তীতে তৈরি করবেন। নিচে প্রশ্ন দেওয়া হল।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

 

অ্যাসাইনমেন্ট: প্রাচীন মিসরীয়, সুমেরীয়, হিব্রু, গ্রিক ও রােমীয় সভ্যতা সমূহের উল্লেখযাে গ্য অবদান পর্যালােচ করে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন;

শিখনফল/বিষয়বস্তু:

প্রাচীন সভ্যতাসমূহের বৈশিষ্ট্য এবং এগুলাের প্রভাব উল্লেখ করতে পারবে;

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

১ প্রাচীন সভ্যতা সমূহের (মিসর, সুমেরীয়, গ্রিক, হিব্রু, রােমান) সংক্ষিপ্ত পটভূমি উল্লেখ;

২. সভ্যতা সমূহের উল্লেখযােগ্য অবদান চিহ্নিতকরণ ও ব্যাখ্যা;

৩. প্রাচীন সভ্যতা সমূহের ধর্মীয় বিশ্বাস উল্লেখ ৪. মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে প্রাচীন সভ্যতা সমূহের প্রভাব ব্যাখ্যা;

 

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর | ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

 

 

ক) প্রাচীন সভ্যতা সমূহের পটভূমিঃ

মিশরীয় সভ্যতাঃ

আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে বর্তমানে যে দেশটির নাম ইজিপ্ট, সেই দেশেরই প্রাচীন নাম মিশর। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ অব্দ পর্যন্ত নীল নদের অববাহিকায় একটি সমৃদ্ধ জনপদের উদ্ভব হয়। এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে। এরপর ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয়। ঐ সময় থেকে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়। একই সময়ে নারমার বা মেনেস হন একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরােহিত। তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন। এরপর থেকে ফারাওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেযােগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ষষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট

ভৌগােলিক অবস্থানঃ তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগােলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরােপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে লােহিত সাগর, পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি,দক্ষিণে সুদান ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ। এর মােট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল। সুমেরীয় সভ্যতাঃমেসােপটেমিয়ার উত্তরাংশে আক্কাদ ও দক্ষিণাংশে সুমের।

এ সুমেরকে কেন্দ্র করেই আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ নাগাদ মেসােপটেমিয়ায় এক উন্নত সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। জাতিতে অসেমিটিক সুমেরবাসীই আদি মেসােপটেমিয়ার জনক। আনুমানিক ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেমিটিক জাতির একটি শাখা দজলা ফোরাত (বর্তমানে টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস) উপত্যকায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। সমাজ ও সভ্যতার দিক দিয়ে অনগ্রসর এই সেমিটিক শাখাটিই স্থানীয় সুমেরীয়দের ঘরবাড়ি তৈরি, জলসেচ সর্বোপরি লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।

এইচএসসি 2022 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  ৬ষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

হিব্রু সভ্যতাঃ
হিব্রু সভ্যতার উৎস ভূমি মধ্যপ্রাচ্যে। এ সভ্যতা আজকের ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চল কেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছিল। জাতিগত ভাবে হিরুরা ছিল একটি মিশ্রিত জাতি। কুটনীতি, স্থাপত্য এবং চিত্রকলার দিক থেকে হিরুরা সভ্যতার ইতিহাসে খুব অল্পই ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু নৈতিকতা ও ধর্মীয়ক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় হিব্রুদের অবদান ছিল যুগান্তকারী। হিব্রুদের মূল নামের উৎপত্তিগত শব্দ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রচলিত একটি মতে, খাবিরু বা হাবিরু নাম থেকেই হিব্রু হয়েছে। হিব্রু অর্থ বিদেশী, নিম্নবংশীয় বা যাযাবর। অধিকাংশ পণ্ডিতের মতেই হিব্রুদের আদিবাস ছিল আরবভূমিতে। তাদের প্রথম বসতি গড়ে ওঠে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়াতে। সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে ইব্রাহীম (আ:) এর নেতৃত্বে হিব্রুদের একটি দল এখানে বসতি গড়ে তােলে। পরবর্তীতে ইব্রাহীম (আ:) এর ছেলে ইসমাইল (আ:) এর নেতৃত্বে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় থেকে তারা ইসরাইলি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এইচএসসি 2022 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  ৬ষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

গ্রীক সভ্যতাঃ
মানব সভ্যতার ইতিহাসে যে ক’টি দেশের মানুষ তাদের উজ্জ্বল অতীতের জন্য ঈর্ষণীয় গৌরবের অধীকারী গ্রিকরা তাদের অন্যতম। গ্রিক নামটি রােমানদের দেয়া। গ্রিসে জন্ম নিয়েছেন তাদের মধ্যে মহাকবি হােমার, জ্ঞানতাপস সক্রেটিস, স্থাপত্য-ভাস্কর্যের অবিস্মরণীয় দিকপাল ইকটিনাস ও ফিডিয়াস, রাজনীতি মঞ্চের অপ্রতিদ্বন্ধী কৌশলী থেমিস, টকলস, এরিস্টাইডিস ও পেরিক্লিস, সাহিত্যের অনির্বাণ জ্যোতিষ্ক সফোক্লিস, এরিস্টোফেলেস, ইউরিপাইডিস, দর্শনের শিখাগ্নী প্লেটো ও এরিস্টটল, ইতিহাসের জনক হেরােডােটাস, থুকিডিডিস প্রমুখ মনীষীর আবির্ভাব এই গ্রিক সভ্যতায়। শিল্প, বিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন ও সাহিত্য প্রতিটি ক্ষেত্রে এর অবদান বিশ্ব সভ্যতায় উল্লেখযােগ্য স্থান দখল করে আছে। এ সভ্যতার বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে আকিয়ানসহ দোরিয়ান ও আয়ােনিয়ানদের অবদান অনস্বীকার্য।

এইচএসসি 2022 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  ৬ষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

রোমান সভ্যতাঃ
রােমান সভ্যতা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সভ্যতা। রােম, গ্রীস, কার্থেক ও প্যালেস্টাইন সহ ভূমধ্যসাগর অঞ্চল জুড়ে বিদ্যমান সকল রাষ্ট্রকে এটি যেমন অধিকার করে, তেমনি অধিকৃত রাষ্ট্রসমূহের শিল্প সংস্কৃতি ও ধ্যান-ধারণা আত্মস্থ করে নিজস্ব অবদানে তা সমৃদ্ধও করে। বিশ্ব সভ্যতার ক্ষেত্রে রােমান সভ্যতার প্রধানতম অবদান রাজনৈতিক ও সরকার পরিচালনা ব্যবস্থা সংক্রান্ত রীতি পদ্ধতি। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে রােম শহরের পত্তন হয়। কালক্রমে টাইবার নদীর মােহনায় সাতটি পার্বত্য টিলাকে কেন্দ্র করে এই নগরীর বিস্তৃতি ঘটে। এই সাতটি নগরীকে নিয়ে পরে গড়ে তােলা হয় একটি একক নগররাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব ২৮০ অব্দ নাগাদ রােমানরা বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে স্বাধীন মিত্রদের একটি শক্তিশালী সংঘ গঠন করে। রােম সাম্রাজ্যকে সুসংহত ও বিস্তৃত করতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তারা হলেন জুলিয়াস সিজার, পাম্পে দ্য গ্রেট, আউগুস্তস ও তাইবেরুস।

এইচএসসি 2022 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  ৬ষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

খ)সভ্যতা সমূহের উল্লেখযােগ্য অবদানঃ

সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদানঃ

প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্মীয় চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি,কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান বিজ্ঞানচর্চা—সবকিছুই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ। মিশরীয়দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, তাদের জীবন ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

সুমেরীয়দের অবদানঃ বড় অবদান চাকা আবিষ্কার করেন। জলঘড়ি ও চন্দ্ৰপঞ্জিকা আবিষ্কারে বিশেষ অবদান রয়েছে। সুমেরিয় গণ কিউনিফার্ম নামে একটি নতুন লিপির উদ্ভাবন করেন।কিউনিফার্ম কে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক বর্ণমালা। সুমেরীয় সাহিত্য মিশরীয়দের চেয়ে উন্নত ছিল।সুমেরীয়রাই প্রথম মহাকাব্য রচনা করেছিলেন।তাদের বিখ্যাত মহাকাব্যের নাম “গিলগামেশ”।

সভ্যতায় হিব্রুদের অবদানঃ খ্রিস্টধর্মের পটভূমি তৈরিতে হিব্রুধর্মের ভূমিকাই ছিল বেশি। সৃষ্টিতত্ব, ঈশ্বরের একাত্ম, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আইনপ্রণেতা, ও পরম বিচারক হিসেবে ঈশ্বরের অবস্থান সম্পর্কিত বাইবেলের দুই তৃতীয়াংশে রয়েছে হিব্রু ধর্মের প্রভাব।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর | ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

সভ্যতায় গ্রিসের অবদানঃ ভৌগােলিক কারণে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলাে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলেও তাদের সংস্কৃতি ছিল অভিন্ন। রাজনৈতিক অনৈক্য থাকা সত্ত্বেও তারা একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী বলে মনে করত। তাদের ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, খেলাধুলা সবকিছু এক সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিল। এই সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল অবদান ছিল এথেন্সের। আর এই সংস্কৃতির নাম হচ্ছে হেলেনীয় সংস্কৃতি।

সভ্যতায় রােমানদের অবদানঃ রােমান সাম্রাজ্য প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনাে। এত বছর পরও পৃথিবী তাদের দেওয়া অনেক অবদান ভুলতে পারেনি। আধুনিক অনেক প্রযুক্তিই প্রাচীন রােম থেকে পাওয়া। কৃষি থেকে শুরু করে বিনােদন সব জায়গাতেই রােমানদের ঐতিহ্য, জ্ঞান আর ডিজাইন ব্যবহার করা হচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। আরফাতুন নাবিলা লিখেছেন আধুনিক সভ্যতায় কিছু রােমান অবদানের কথা।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন উত্তর এসাইনমেন্ট ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

গ) প্রাচীন সভ্যতা সমূহের ধর্মীয় বিশ্বাসঃ

মিসরীয়র= প্রথমে কোন ধর্ম বিশ্বাস ছিলাে না। পরে বিভিন্ন দেব দেবীর পূজা করত। সুমেরীয় =সুমেরীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, স্বর্গ ছিল শুধুমাত্র দেবদেবীদের জন্যই সংরক্ষিত এবং জীবৎকালে আচরণ যাই হােক না কেন, মৃত্যুর পর সকল নশ্বর ব্যক্তির আত্মাই মৃত্যুর পর মাটির অনেক নিচে অবস্থিত এক শীতল ও অন্ধকার গুহায় গমন করত। এই প্রেতলােকের নাম ছিল কুর এবং এই লােক শাসন করতেন দেবী এরেশকিগাল। হিব্রু= ইহুদি ধর্ম (হিব্রু ভাষায়ঃ ‘Tin! যেহূদী) একটি প্রাচীন অব্রাহামীয় একেশ্বরবাদী ধর্ম। … ইহুদি বিশ্বাসমতে, ঈশ্বর এক, আর তাঁকে যিহােভাহ (Jehovah, YHWH) নামে আখ্যায়িত করা হয়। মােশি হলেন ঈশ্বরের একজন বাণীবাহক।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর | ৬ষ্ঠ সপ্তাহ

ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মতােই গ্রিক=গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীর গল্পগুলি আতিথেয়তা এবং নির্দেশ করে, কিন্তু তারা সম্ভবত গ্রিক ধর্মের সামগ্রিকতা তৈরি করতে পারে না, ঠিক যেমন বাইবেল এবং কোরান আধুনিক একেশ্বরবাদী ধর্মের সামগ্রিকতা নয়। রােমানদের ধর্মঃ ধর্মগ্রন্থ এবং নবী কেন্দ্রিক ছিলাে না, যাজকদের সাহিত্য ছিলাে প্রথমদিককার লাতিন গদ্যের লিখিত রূপ। কলেজ অভ পন্টিফস এবং অগার্সের বই (লাইব্রি) এবং বর্ণনা (commentari) তে আছে ধর্মীয় পদ্ধতি, প্রার্থণা, বিধান এবং ধর্মীয় আইনের উপর মতামত।

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার এসাইনমেন্ট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি উওর

ঘ) মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে প্রাচীন সভ্যতার প্রভাবঃ

অতীত ব্রিটেন থেকে শুরু করে ব্যাবিলন, এরকম অনেক প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন নিয়ে গড়ছে উঠেছে আমাদের আধুনিক বড় বড় শহরগুলাে। সেই সব প্রাচীন সভ্যতার অনেক কিছুই ভুমিকা রাখছে এসব শহরের আর ভবনের পরিকল্পনায়। এখানে তার কয়েকটি উদাহরণ:

১. প্রাচীন মিশর এবং পিরামিডঃ প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন পিরামিডগুলাে, যার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে আধুনিক স্থাপত্যকলায়, যার উদাহরণ প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন ভবনের নকশায়। বিশ্ব জুড়ে অনেক ভবনে পিরামিডের আদল দেখা যাবে। যেমন মেমফিসের পিরামিড অ্যারেনা, লাস ভেগাসের লুক্সর ক্যাসিনাে এন্ড হােটেল, জাপানের নিমা স্যান্ড মিউজিয়াম, এসব ভবন পিরামিডের আদলে নকশা করা হয়েছে। প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামের প্রবেশদ্বারও পিরামিডের মতাে নির্মাণ করা হয়েছে।

২. রােমান সাম্রাজ্যের পথঃ সব পথই রােমে গিয়ে ঠেকেছে! এই প্রবচনটি হয়তাে পুরােপুরি সত্যি নয়, কিন্তু প্রাচীন যুগের রােমানরা অবশ্যই তাদের সম্পর্কে দুইটি বিষয় ভালােভাবে জানতাে। রােমানদের আগে শহর ও নগরগুলােয় যাতায়াতের সহজ কোন পথ ছিল না। কার্যকরী যােগাযােগ ব্যবস্থা আর বাণিজ্য পথের গুরুত্ব তারা বুঝতে পেরেছিল। এ কারণে সবচেয়ে ভালাে পথ নির্মাণ করতে বড় আকারে জরিপ করা হয়, যাতে পথে কোন প্রতিবন্ধকতার তৈরি না হয় এবং পথটি সােজাসাপ্টা হয়।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ষষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট

তারা পাথরের ভিত্তি স্থাপন করে এবং পথের ওপরও পাথর বসিয়ে দেয়, যাতে ভারী ঘােড়ার গাড়ী এবং সৈন্য বহরের চাপেও রাস্তা ঠিকঠাক থাকে। খৃষ্টপূর্ব ৪০০ বছর আগের এই প্রযুক্তি এখনাে সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। রােমানদের তৈরি করা বেশ কিছু পথ এখনাে ইউরােপ, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৩. ব্যাবিলনের পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থাঃ প্যারিসে প্রথম পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা চালু হয় ১৮৫০ সালে। লন্ডনে চালু হয় ১৮৬৬ সালে। কিন্তু ব্যাবিলনে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব প্রায় ৪০০০ বছর আগে। কিন্তু সেটি গ্রহণ করতে বাকি বিশ্বের এতাে বেশি সময় কেন লাগলাে? ধারণা করা হয়, প্রাচীন ব্যাবিলনেই প্রথম বলদা মথিত করে পাইপের আকার দেয়া হয়, যার মাধ্যমে বাসাবাড়ি থেকে পয়ঃবর্জ্য বের করে দেয়া হতাে। বেল এট নিপুর এ হাজার হাজার বছর আগের এরকম পাইপ এবং টি-জয়েন্টের নমুনা পাওয়া গেছে।

৪. প্রাচীন গ্রিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থাঃ এককথায় বলা চলে, প্রাচীনে গ্রিকরা ছিল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রথম উদ্ভাবক। প্রাচীন ক্রেটান- মিনােয়ান্সরা প্রথম কাদাকে পাইপ বানিয়ে মাটির নীচে বসিয়ে দেয়। তাদের রাজধানী কোনােসােসে পরিষ্কার পানি নিয়ে আসা আর ময়লা পানি বের করে দেবার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।রােমের সড়কের কথা এর আগে এসেছে। এবার আলােচনায় আনা যাক আরেকটি বিষয়: ‘রােম একদিনেই নির্মিত হয়নি। শহরের নানা তােরণের ঘুরপ্যাঁচ, কলাম এবং গম্বুজগুলাে যেভাবে স্থাপন করা হয়েছে, তাতে ওই প্রবাদ বাক্যটি সঠিক বলেই প্রমাণিত হয়। . রােমান সাম্রাজ্যের স্থাপত্য নমুনা এখনাে বিশ্বজুড়ে দেখা যাবে।

যখন উনিশ শতকে নেপােলিয়ন তার নিজস্ব সাম্রাজ্য তৈরি করছিলেন, তিনি বেশ কয়েকটি পার্সিয়ান অবকাঠামাে নির্মাণের আদেশ দেন, যা আসলে রােমানদের কাছ থেকেই ধার করা। উদাহরণ হিসাবে আর্ক ডে ট্রায়ােফ এবং প্যালেস ভেনডােমের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। ওয়াশিংটনের হােয়াইট হাউজের দিকেও একবার তাকিয়ে দেখুন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির এই বাসভবনের কলাম এবং তােড়ন পরিষ্কারভাবে প্রাচীন রােমেরই প্রতিনিধিত্ব করছে। তারা বড় আকারে ঘরবাড়ি গরম রাখার ব্যবস্থা তৈরি করেছিল এবং টয়লেটে ফ্লাশিং ব্যবস্থা করেছিল। কার্বন পরীক্ষা দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি চালু হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব আঠারােশাে শতকে।

এইচএসসি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ষষ্ঠ সপ্তাহ এসাইনমেন্ট

৫. পৌত্তলিক ব্রিটেন এবং সূর্য উপাসনা মিল্টন কেইনেস হয়তাে ব্রিটেনের সবচেয়ে সুন্দর শহর নয়, কিন্তু শহরটি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়, সজ্ঞানে আর নিশ্চিতভাবে একটি আধুনিক শহর। গৃহ সমস্যা মেটাতে যদিও এটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৬০ সালে, কিন্তু শহরটি এমনভাবে সাজানাে হয়েছে, যেখানে ব্রিটেনের ইতিহাস নানাভাবে ফুটে উঠেছে। পৌত্তলিক ব্রিটেনের প্রথা আর বিশ্বাসের নানা বিষয় শহরের নকশায় ব্যাপকভাবে স্থান পেয়েছে। স্টোনহেজের মতাে শহরের প্রধান সড়কটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে, গ্রীষ্মের সময় সেটি উদিত সূর্যের সমান্তরাল থাকে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের পরামর্শ, আমরা যেভাবে উত্তর/সমাধান দিব সেটা হুবহু না লিখে উত্তরটা নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করতে l এতে করে শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজে ভালো নম্বর অর্জন করতে পারবে ।

প্রতি সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার জন্য kormojog.com এর ফেসবুক পেইজ  কর্মযোগ লাইক এবং ফলো করে রাখ।

About Karmojog

Check Also

এসএসসি ২০২২ শারীরিক শিক্ষা ১১ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

এসএসসি ২০২২ শারীরিক শিক্ষা ১১ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

এসএসসি ২০২২ শারীরিক শিক্ষা ১১ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর SSC 2022 11th Week Sharirik Shikkha Answer, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *